মনস্তাত্বিক কারাগারে বন্দি আমরা

দার্শনিক মতে মানুষ নিজেকে দুঃখী ভাবতে ভালবাসে ।
অনেকেই জীবনের এমন কিছু সময় পাড় করে যখন সে তার আশে পাশের সকল মানুষকেই স্বার্থপর মনে করে ।

নিজেকে কারো অধিনস্ত বা কারো সিদ্ধান্তের ভুক্তভোগি মনে করা , নিজের ভুলগুলো অন্যদের উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে অসহায় ভাবা , কাছের মানুষদের অনুভহুতি আর আবেগ কে মিথ্যা ভেবে নিজের নেগেটিভ চিন্তা চেতনাকে পস্রয় দিয়ে নিজেকে এক \” মন্সতাত্বিক কারাগারে \” বন্দি করে রাখি । মানের নিজের মনের কারাগারে নিজেকে দুখী ও অসহায় আখ্যা দিয়ে হাফ ছেড়ে বাচার চেষ্টা করি । নিজেকে নিজে ছোটো মনে করা , সব সময় সকল অবিচারের কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে নিজেকে স্থান দেওয়া , অযাচিত গ্লানি নিয়ে দিনশেষে এক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে মন্সতাত্বিক কারাগারে নিজেকে বন্দি করে রাখতে আমরা ভালবাসি ।

যে সমাজ বা ব্যাক্তিগত সম্পর্ক গুলোতে নিজের স্থান ও মর্যাদা সম্পর্কে প্রতিনিয়ত সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে , সে নিজেই তার প্রকিত মর্যাদা জানে না ।

প্রত্যেকটা মানুষ স্বার্থপর , সে কেবল নিজেকেই ছোটো করে , হয়ত সে আজো নিজেকেই ভালবাসতে পারেনি ।

যেমন পিতা সন্তানের কোন ভুল বা সংশোধন কারণেই শাসন করে – এবং সন্তান যদি পরবর্তীতে পিতার প্রহারগুলোই গুনে সিদ্ধান্ত নেয় বাব তার সবচেয়ে বর শত্রু কারণ এর তার মত এত বার আরকেউ আঘাত করে নাই , তবে এই হীনমন্য ও বিবেকহীন বিচারের দায় সন্তানের ।

বাবার কাছে সন্তানের স্থান সবসময় এক রকম , এই ভালবাসায় কোন খাদ নেই , নেই স্বারথ্ব । যদি সন্তান ভুল বুঝে বাবাকে – তাহলে সন্তান নিজেই তার প্রকিত মর্যাদা সম্পর্কে জ্ঞ্বানহিন । সে জানে না কতটা ভালবাসা আর মমতায় তার জীবন উদ্ভাসিত ।
বাবা সন্তানের মত আমাদের জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে আপন ও প্রিয় মানুষগুলোর কদাচিৎ ভুল সিদ্ধান্ত , ভুল ব্যাবহার কিংবা মতের অমিল গুলো দিয়ে যদি তাদের সার্বিক অনুভহুতি বিচার করি তবে এর দায় আমাদের নিজেদের ।

নিজেকে দুখী ভেবে অপরের কষ্টগুলোকে মর্যাদা না দেওয়া , হতাশার সাগরে ডুব দিয়ে নিজের দায়িত্ব গুলো এড়িয়ে যাবার দুখী দুখু অজুহাত সৃষ্টি করি আমরা নিজের মনে ।


হ্যাঁ আমরা অজুহাত দেই নিজেকে , অজুহাত দেই আমাদের মনের ভিতরে থাকা স্বত্বাকে যে সব সময় সঠিক উপায়টি একবার হলেও বলে দেয় ।

প্রত্যেকটা মানুষের মনের মাঝের অনুভহুতির যুদ্ধগুলো এতটাই বিশাল যে একে কোন সুপার কম্পিউটার দিয়ে হাজার বৎসরেও উপায় খুঁজে বের করা যাবে না ।

আমরা আমাদের নিজের মনের অনুভহুতিগুলোর এত গুরত্ব dei যে , মাঝে মাঝে ভুলে যাই আমাদেরই চারপাশে এই মানুষগুলোর মনেও কতটা যুদ্ধ চলে । হয়ত তাদের জীবন যুদ্ধের মহাকাব্য আমাদের তুচ্ছ অনুভহুতিগুলোর সাথে একেবারের নগণ্য ।

নিজেকে সকল কিছুর অন্তরায় না ভেবে , পৃথিবীর সবচেয়ে দুঃখী মানুষ হিসাবে নিজেকে ব্রেইনঅয়াশ না করে একটু চোখ মেলে তাকাই , চলুন একটু বোঝার চেস্টাকরি নবাগত আগন্তক থেকে প্রিয়তমদের ।

হয়ত আজ আমাদের ছোট একটা হাসি , কিছু সুন্দর কথা , কিছু অনুপ্রেররনা কিংবা ইক্টু প্রশংসা বদলে দিতে পাড়ে কারো একটি দিন ।
সৃষ্টিকর্তার এই মহানন্দজগতে তার সৃষ্টি মানুষ , প্রকিতি O জীব । তার সৃষ্টির বিশালতা O সৌন্দর্য আমাদের বিমোহিত করার জন্য , এই সৌন্দর্য মানবে , প্রকিতি ও দিগন্তে ।

আজ থেকে পায়ের নিচে ধুলোবালিগুলোর দিকে তাকিয়ে নিজেকে নোংরা না ভেবে মাথা তুলে দিগন্তে তাকাই , নীল আকাশ , মেঘদের লুকোচুরি , পাখিরা দিন শেষে ঘরে ফেরে , মানবেরা বসত করে সৃষ্টিকর্তার ভালবাসা আনন্দধারায় ।

তিনি চান না তার এক নগণ্য সৃষ্টির গ্লানিভরা জীবন , আমরা প্রতি মুহূর্তে বাঁচি সেই মহানুভুবের কৃপায় । এই মানব জীবন তার কাছথেকে উপহার পবিত্র কুরআনে তাইতো তিনি বলেছেন \” আমি মানুষকে নেয়ামত দান করলে সে মুখ ফিরিয়ে নেয় । অহঙ্কারে দুরে সরে যায় , যখন তাকে কোন অনিষ্ঠ স্পর্শ করে তখন সে একেবারেই হতাশ হয়ে পরে \”

প্রকিত আনন্দ কেবলই সৃষ্টিকর্তার মহানুভবতা অনুধাবন করা । কুরআনে সর্বময়য় সৃষ্টিকর্তা O পালনকর্তা আরও বলেন \” সপ্ত আকাশ ও পৃথিবী এবং এগুলোর মধ্যে যাকিছু আছে সমস্ত কিছু তাঁরই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এবং এমন কিছু নেই যা তার সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করে না। কিন্তু তাদের পবিত্রতা, মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পার না। নিশ্চয় তিনি অতি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ। \” ১৭:৪৪ \” ।

বিশ্বাস করুন আপনি এক মহান মানুষ – স্রিস্টকরতার সৃষ্ট এক মহান সৃষ্টি , আপনার দায়িত্ব ও ক্ষমতা অসীম । নিজেকে নিজের  বানানো মন্সতাত্বিক কারাগারে না বেধে , বিশ্বাস করতে শিখুন আপনি আশরাফুল মাখলুকাত । আমরা এক একটি মানুষ তার জীবনের এক একটি মহাকাব্য নিয়ে এই দেহ ত্যাগ করব । কিন্তু  আমরা সকলেই   এই  মহাকালের আজন্ম অংশীদার ।

তাই চলুন কাল থেকে সবকিছু ভাল হয়ে যাবে ভেবে কল্পনার সাগরে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়ে , আজকের দিনটা কেন এত সুন্দর আর মাধুর্যে ভরা তা নিয়ে চিন্তা করি । আজ থেকে পায়ের নিচে ধুলোবালিগুলোর দিকে তাকিয়ে নিজেকে নোংরা না ভেবে মাথা তুলে দিগন্তে তাকাই , নীল আকাশ , মেঘেদের  লুকোচুরি , পাখিরা দিন শেষে ঘরে ফেরে , মানবেরা বসত করে সৃষ্টিকর্তার ভালবাসা আনন্দধারায় –

তাই  ধন্যবাদ তোমায় সৃষ্টিকর্তা – কান্না , দুঃখ ও আনন্দে তুমি আমাদের জীবনকে করেছ মহামন্বিত । পৃথিবীর সকল সৃষ্টি সুখি